

Active· since Feb 5, 2026
- 225
- days running
- 0
- relaunches
Ad copy
ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে যাকাত হচ্ছে তৃতীয়। যাকাত আদায় ও এর বণ্টন একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যতামূলক ইবাদাত, তেমনি তা সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কার্যকর একটি উপাদানও বটে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলমানদের জন্য যাকাত আদায় করা ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা সালাত কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো এবং যারা রুকূ’ করে তাদের সাথে রুকূ’ করো।” (সূরাহ বাকারা: ৪৩) রাসূল (সা.) বলেছেন, “যারা যাকাত আদায় করে না তারা শেষ বিচারের দিনে দেখতে পাবে যে, তাদের সেই সব ধন-সম্পদ ভয়ঙ্কর সাপ হয়ে তাদের দেহ জড়িয়ে ধরছে। এসব বিষাক্ত সাপ তাদের দেহকে কঠিনভাবে নিষ্পেষিত করবে, ছোবল দেবে এবং বলতে থাকবে, আমরাই তো তোমাদের আহরিত ধন-সম্পদ এবং আমরাই হলাম সেইসব রত্ন-সম্ভার, যার প্রতি তোমরা এত আসক্ত ছিলে।” (সহীহ আল বুখারী) যাকাত ফরয হওয়ার শর্ত কোনো ব্যক্তির মালিকানায় নিসাব পরিমান সম্পদ এক বছর পূর্ণ করার ফলে তার উপর যাকাত ফরজ হয়। যাকাত প্রযোজ্য হয় এমন সম্পদসমূহ হলোঃ নগদ টাকা, সোনা, রূপা, সব ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য, গবাদি পশু ও নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য । নিসাব হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর এক বছরের জন্য কমপক্ষে ৮৫ গ্রাম সোনা বা ৫৯৫ গ্রাম রূপা অথবা এর কোনো একটির সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা অন্যান্য সম্পদ কোনো ব্যক্তির মালিকানায় থাকা। এরূপ নিসাব পরিমান সম্পদ থাকলে কোনো ব্যক্তির প্রতি যাকাত অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট সম্পদ থেকে ২.৫% হারে যাকাত আদায় করা তার উপর ফরজ। যাকাত বিতরণের খাতসমূহ যাকাতের অর্থ বা সম্পদ বিতরনের বিষয়ে কুরআন মাজীদে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সূরা তাওবার ৬০ নং আয়াত অনুযায়ী যাদের মাঝে যাকাত বিতরণ করা যাবে তারা হলেন: ১. ফকীর: এরূপ গরীব মানুষ, যার বেঁচে থাকার মত খুব সামান্য সহায় সম্বল রয়েছে বা আদৌ নেই। ২. মিসকীন: এমন অভাবী, যার রোজগার তার নিজের ও নির্ভরশীলদের অপরিহার্য প্রয়োজনসমূহ মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ৩. আমিলীন: প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকাজে নিয়োজিত কর্মচারী। ৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব: এমন নও-মুসলিম যার ঈমান এখনও পরিপক্ক হয়নি; অথবা ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক এমন কোনো অমুসলিম, যাদের চিত্ত দ্বীন ইসলামের প্রতি আকর্ষিত ও উৎসাহিত করা আবশ্যক। ৫. ইতকুর রিকাব: ক্রীতদাসের দাসত্ব মোচনের জন্য মুক্তিপণ প্রদান। ৬. গারিমীন: ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির খণ পরিশোধের জন্য। ৭. ফী সাবীলিল্লাহ: আল্লাহর রাস্তায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ বিশেষত যারা ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত; এবং ৮. ইবনুস-সাবীল: মুসাফিরের পাথেয়, অর্থাৎ অর্থাভাবে বিদেশ-বিভূঁইয়ে আটকে-থাকা মুসাফির। যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায় না নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক: যে ব্যক্তি অন্যুন ৮৫ গ্রাম সোনা বা ৫৯৫ গ্রাম রূপার অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা সমমূল্যের অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী বা বাণিজ্য পণ্যের মালিক, তাকে যাকাত প্রদান করা যায় না | এরূপ ব্যক্তির যাকাত গ্রহণ নিষিদ্ধ এবং তা ব্যবহার করা হারাম। নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী কাউকে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না, বরং যাকাত আদায়কারীকে পুনরায় যাকাত দিতে হবে। নির্দিষ্ট আত্মীয়: ব্যক্তি তার আপন মাতা, পিতা, মাতামহ, মাতামহী, পিতামহ ও পিতামহী এবং তাদের পিতা-মাতাকে যাকাত দিতে পারবে না। তেমনিভাবে নিজের পুত্র, কন্যা, দৌহিত্র ও দৌহিত্রীগণ এবং তাদের সন্তানাদিকেও যাকাত দেওয়া যায় না। আবার স্বামী স্ত্রীকে যাকাত দিতে পারবেন না। উক্তরূপ পরিজনবর্গ ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন, যথাঃ ভাই-বোন, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফা-ফুফু, খালা-খালু, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী, চাচাতো-মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন, ভ্রাতুম্পুত্র-ভ্রাতুষ্পুত্রী প্রমুখকে যাকাত প্রদান করা যায়। এমনকি স্ত্রী তার স্বামীকেও যাকাত দিতে পারবেন। সেবার প্রতিদান: কোনো ব্যক্তিকে তার কৃত সেবার জন্য পারিশ্রমিক স্বরূপ যাকাত প্রদান করা যায় না। তেমনিভাবে শিক্ষককে বা সম্পত্তি তত্বাবধানকারীগণকেও যাকাত দেওয়া যায় না। কর্মচারীকে মজুরি প্রদান: গৃহভৃত্য বা অন্য কোনো কর্মচারীকে মজুরি হিসেবে যাকাত দেওয়া যায় না। অবশ্য মজুরির অতিরিক্ত উপহার হিসেবে এবং কোনো বিনিময় বা কৃতজ্ঞতাবোধের প্রত্যাশা ব্যতিরেকে তাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়। মসজিদে: কোনো মসজিদের নির্মাণ, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে যাকাত পরিশোধ করা যায় না। দাফন-কাফনের ব্যয় নির্বাহে: কোনো মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে যাকাত ব্যবহার করা যায় না। তবে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা গরীব হয়ে থাকলে যাকাত গ্রহণ করতে পারবেন এবং সেই টাকা থেকে তাদের মৃত আত্মীয়ের দাফন-কাফনের জন্য খরচ করতে পারবেন। বিবিধ বিষয় ১. কোনো ব্যক্তিকে প্রদত্ত যাকাত তার অন্তত এক দিনের প্রয়োজন মেটানোর মতো পরিমাণের চেয়ে কম হতে পারবে না। তাছাড়া যাকাত এমনভাবে দেয়া উচিৎ, যাতে যাকাত গ্রহিতা যাকাতের অর্থ দিয়ে স্থায়ীভাবে দারিদ্রমুক্ত জীবনযাপন করতে পারে। ২. যদি কেউ কাউকে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত বিবেচনায় যাকাত দেয়, কিন্তু পরে দেখা গেল, যাকাতগ্রহিতা নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী অথবা যাকাতদাতার সাথে যাকাতগ্রহিতার বিশেষ আত্মীয়তা রয়েছে (যাদের যাকাত দেয়া নিষিদ্ধ), এরূপ ক্ষেত্রে যাকাতদাতার যাকাত আদায় হয়ে যাবে, তাঁকে পুনরায় যাকাত আদায় করতে হবে না। ৩. কোনো ব্যক্তি যদি যাকাত গ্রহণের জন্য উপযুক্ত না হন, তাহলে তাকে যাকাত দেয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন অথবা তৎক্ষণাৎ তা যাকাতদাতার নিকট ফেরত দেবেন। কারণ তার জন্য যাকাতগ্রহণ নিষিদ্ধ। 8. যাকাত-এর প্রথম হকদার হলেন গরীব আত্মীয়-স্বজন | তারপর অগ্রাধিকার পাবেন যাকাতদাতার প্রতিবেশীগণ; অতপর, তার বসবাসের গ্রাম/শহর/নগর বা দেশের উপর্যুক্ত রূপের অধিবাসীগণ। অন্য এলাকার লোকদের প্রয়োজন অধিকতর তীব্র ও জরুরী হলে তাদের কাছেও যাকাত প্রেরণ করা যায়। ৫. প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত বিতরণ করা উত্তম। ✅যাকাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট প্রকাশিত 'যাকাতের বিধিবিধান' বইটি পড়তে পারেনঃ https://czm-bd.org/books ✅যাকাত হিসাব নিরুপণের জন্য সিজেডএম যাকাত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেনঃ https://www.czm-bd.org/zakat-calculator ✅সিজেডএম-এ আপনার যাকাত, সদাকাহ, অনুদান প্রদান করতে পারেন। ১। ব্যাংক হিসাব A/C Name: Center for Zakat Management A/C No. 2207318004608 Prime Bank PLC (Islamic Banking Window) Branch: Tejgaon Routing Number: 170264484 Swift Code: PRBLBDDH ২। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এবং ট্যাপঃ ০১৭২৯ ২৯৬ ২৯৬ (মার্চেন্ট একাউন্ট, পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করতে হবে) ৩। অনলাইন পেমেন্ট করুনঃ https://www.czm-bd.org/czm-payment?check-donation=1 ✅যাকাত হিসাব সহায়তা ও পরামর্শ সেবা পেতে কল করুনঃ ০১৭৮৩৫৫৮৮৩৩
Like this ad? Make it yours.
Crush rebuilds this exact creative around your product — your brand, your colors, your offer — in about a minute.



